সাহিত্য

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সাক্ষাৎকার নিয়ে বই

সীমান্ত নওশের

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৫:০৭ | ১৭

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন অগ্রচিন্তার মানুষ। তাঁর পরিচিতি বহুবিধ।

শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, নন্দনতাত্ত্বিক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক। তিনি জীবনকালে খুব বেশি সাক্ষাৎকার দেননি। যে কয়েকটি সাক্ষাত্কার দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে আগে কোনো বই প্রকাশিত হয়নি। সমকালীন ও ভবিষ্যত্কালের পাঠকদের কথা ভেবে তাঁর সাক্ষাত্কারগুলো নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

বইটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : নন্দনচিন্তা ও বিবিধ আলাপ’। বইটিতে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ৯টি সাক্ষাত্কার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাক্ষাত্কারগুলো নিয়েছেন যথাক্রমে কবি ওবায়েদ আকাশ, কথাসাহিত্যিক কুলদা রায়, সাংবাদিক শাখাওয়াত লিটন, কথাসাহিত্যিক মাসউদ আহমাদ, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক তুষার তালুকদার, কথাশিল্পী স্বকৃত নোমান, কথাশিল্পী মোজাফ্ফর হোসেন, কবি ইমরান মাহফুজ এবং সাংবাদিক মোহাম্মদ কবীর আহমদ।

এসব সাক্ষাত্কারে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে কথা বললেও প্রধানত তাঁর নন্দনচিন্তা নিয়ে বেশি বলেছেন।

যেমন—কবি ওবায়েদ আকাশের নেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘নিরীক্ষার প্রবণতা সব সময় থাকবে, তাই বলে সকলেই এই কাজে নামলে তো মুশকিল। এ জন্য প্রস্তুতির একটা ব্যাপার আছে। একটি পত্রিকার সম্পাদকীয় সাধু ভাষায় লেখা হতে পারে। কারণ যে ভাষাটা হারিয়ে যাচ্ছে, তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তা হতে পারে। কিন্তু সব পত্রিকা তা শুরু করলে এটি চমকে পরিণত হবে।

জীবন থেকে যেমন সাহিত্য, সাহিত্য থেকেও জীবন তেমন আলাদা নয়; সেই অর্থে জীবনের ভাষা সাহিত্যে প্রতিফলিত হবে। কিন্তু সাহিত্য তো সাংবাদিকতা নয়, সেখানে কল্পনার একটা জায়গা আছে, পরিশীলনের একটা জায়গা আছে। ভাষায় তার প্রতিফলন থাকতে হবে। জীবন থেকেও নিতে হবে, আবার কল্পনা থেকেও নিতে হবে।’

কিংবা কথাসাহিত্যিক মাসউদ আহমাদকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, “লেখকরা নেপথ্যে থাকতেন মুদ্রিত পৃষ্ঠার পরাক্রমের দিনে, কারণ লেখকরা তখন প্রকাশিত হতেন তাঁদের লেখার মধ্য দিয়ে। আধুনিকতার একটা সময়ে তো নিভ্রমের অনুকরণে একটা ধারণা কল্কে পেল যে লেখক বলতে আসলে কেউ নেই। লেখক আসলেই মৃত। এর একটা গূঢ় অর্থ লেখক যে টেক্সট তৈরি করেন, তা আসলেই ইন্টার টেক্সট। আন্তগ্রন্থিকতার চিন্তায় লেখক তো আলাদা দ্রষ্টা নন—যা লেখার তা তো ইতোমধ্যে লেখা হয়েই গেছে। তবে দৃশ্যমাধ্যম যখন পরাক্রমশালী হলো, ইমেজ বা ছবি হয়ে উঠল প্রধান বিবেচনা, তখন সবই নির্ধারিত হয় দৃশ্যমানতার মাপকাঠিতে।”

বইটি এবারের বইমেলায় প্রকাশ করেছে বেঙ্গল বুকস। গ্রন্থনা করেছেন স্বকৃত নোমান ও মোজাফ্ফর হোসেন। প্রচ্ছদ ও বইনকশা করেছেন কবি, চিন্তক ও শিল্পী আজহার ফরহাদ। দাম রাখা হয়েছে ৩৯৪ টাকা। বাংলাদেশের বাতিঘর, পাঠক সমাবেশসহ বই বিক্রির দোকানগুলোতে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher