বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। মেলার প্রতিটি স্টল-প্যাভিলিয়নের অন্যতম উদ্দেশ্য প্রকাশনীর প্রচারণা ও বই বিক্রি। সেজন্য পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণই প্রকাশনীর মূল লক্ষ্য। তাই গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে মেলার স্টল-প্যাভিলিয়ন সাজানোর চেষ্টা করে প্রকাশনীগুলো।
মেলা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় নান্দনিক পরিবর্তন এনেছে কিছু প্রকাশনা সংস্থা। এসব পরিবর্তনে মুগ্ধ পাঠক-দর্শনার্থী। এবারের বইমেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে আকাশ প্রকাশনীর। পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণে এই স্টলে আনা হয়েছে গ্রামীণ ছোঁয়া। বাঁশের তৈরি স্টলটি এরই মধ্যে মেলায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যার কারণে স্টলটি দেখতে প্রতিদিন পাঠক-দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে।
আকাশ প্রকাশনী জানিয়েছে, ঢাকা একটি ব্যস্ত নগরী। এ শহরের অনেক মানুষের গ্রামীণ পরিবেশ দেখার সুযোগ হয় না, যার কারণে তারা স্টলটিকে গ্রামীণ পরিবেশে সাজিয়েছে। তবে এ কাজটি সহজ ছিল না। স্টলটি নির্মাণের জন্য বাঁশ ও যেসব উপাদানের দরকার ছিল, তা ঢাকায় ছিল না। যার কারণে ঢাকার বাইরে থেকে এসব জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে হয়েছে। গাজীপুর, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জ থেকে স্টল নির্মাণের উপাদান আনা হয়েছে। এ ছাড়া স্টল নির্মাণের জন্য ১০ মিস্ত্রিও ঢাকার বাইরে থেকে আনা হয়েছে। স্টলের ভেতরে প্রবেশ করলে গ্রামীণ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। স্টলের ভেতরে যে দরজা লাগানো হয়েছে সেটি ৮০ বছরের পুরোনো। স্টলের ওপরে বাবুই পাখির বাসা, বিভিন্ন ফুলের টব টানানো হয়েছে। ওপরে দেওয়া হয়েছে ছনের ছাউনি। স্টলের ভেতরে বাঁশ-বেতের ফাঁকে ফাঁকে বইয়ের ক্যাটালগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্টলটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাজউর রহমান রাজু কালবেলাকে বলেন, আমরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ স্টল নির্মাণের জন্য সব কিছু ঢাকার বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভিন্ন আঙ্গিকে স্টল সাজানোর পরও বিক্রি কম হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের স্টলে মানুষ আসছে বেশি; কিন্তু বিক্রি হচ্ছে কম। যারা আসছেন তারা বই কিনছেন কম; কিন্তু ছবি তুলছেন বেশি। এ ছাড়া একজন ভেতরে প্রবেশ করলে দুজন বাইরে থেকে ছবি তুলছেন।
শুধু আকাশ প্রকাশনী নয়, এবারের মেলায় আরও কিছু স্টলের অবকাঠামো নির্মাণে নান্দনিকতা আনা হয়েছে। বর্ণিল ও কারুশিল্পের নানা জিনিসপত্রে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এসব প্রকাশনী। তাদের মধ্যে অন্যতম নবান্ন প্রকাশনী। রিকশা ও রিকশাশিল্পকে ঘিরে স্টলের সাজসজ্জা করা হয়েছে।
দেশে রিকশা আর্টশিল্পের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার প্রত্যয়ে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে রিকশা আর্টকে পরিচিত করার প্রত্যয়ে নবান্ন এ আয়োজন করেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, নিমফিয়া পাবলিকেশন, পুথিনিলয় প্রকাশন, মিজান প্রকাশনও এবার ভিন্নভাবে সাজানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তুষার আহমেদ নামে এক পাঠক কালবেলাকে বলেন, বইমেলায় এসে কয়েকটি স্টল নির্মাণের কাজ ভালো লেগেছে। আমার কাছে আকাশ প্রকাশনী ও নবান্ন প্রকাশনীর নান্দনিকতা ভালো লেগেছে।
গতকাল মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ধীরে ধীরে জমে উঠেছে এবারের মেলা। গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার পর থেকেই মেলায় পাঠক আসতে শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে মেলায় প্রচুর পাঠকের সমাগম ঘটে। এ সময় বিক্রিও ভালো হয়।
কালবেলা পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এ বিষয়ে প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রেতা মিনহাজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমাদের এখানে বিক্রি বেড়েছে। প্রতিদিন পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে অনেক পাঠক হয়। আজও আমাদের ভালো বিক্রি হয়েছে।
মেলায় নতুন বই : অমর একুশে বইমেলার ষষ্ঠ দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১২১টি। তার মধ্যে গল্পের বই ১৬টি, উপন্যাস ২৪টি, প্রবন্ধ ৫টি, কবিতা ৩২টি, গবেষণা একটি, ছড়া ২টি, শিশুসাহিত্য ৩টি, জীবনী ৮টি, রচনাবলি ২টি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ৩টি, নাটক ১টি, ভ্রমণ ২টি, ইতিহাস ৫টি, ধর্মীয় ৩টি, অনুবাদ ১টি, অন্যান্য ১৩টি।
গতকালের অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : কাজী রোজী এবং স্মরণ : দিলারা হাশেম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাসির আহমেদ এবং তপন রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আসলাম সানী, শাহেদ কায়েস, আনিসুর রহমান এবং শাহনাজ মুন্নী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অসীম সাহা।
লেখক বলছি : অনুষ্ঠানে গতকাল নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মোজাম্মেল হক নিয়োগী, রহীম শাহ, সত্যজিৎ রায় মজুমদার এবং তুষার কবির। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মাহবুব সাদিক, ফারুক মাহমুদ এবং আতাহার খান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, মাহিদুল ইসলাম এবং অনন্যা লাবণী। এ ছাড়া ছিল সাইমন জাকারিয়ার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভাবনগর ফাউন্ডেশন’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আজগর আলীম, আবুবকর সিদ্দিক, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, রহিমা খাতুন, শান্তা সরকার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন আব্দুল আজিজ (তবলা), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কি-বোর্ড), অরূপ কুমার শীল (দোতারা) এবং মো. শহিদুল ইসলাম (বাঁশি)।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher