ঘন ঝোপ থেকে লতিয়ে ওঠা একটা লতায় ঝিঁঝি পোকা বসে আছে। তার গায়ে রোদ লেগেছে।
ঘ্যাংচা সেটা ধরতে যায়। কিন্তু যেই তার হাতখানা ধরব ধরব করে, তখনই ঝিঁঝি উড়ে যায়। এ রকম চলে ১০ থেকে ১২ মিনিট। তখন কে একজন বলে, ‘তোর চেয়ে সামান্য ঝিঁঝির বুদ্ধি বেশি!’ রাগে ঘ্যাংচার শরীরে কাঁপুনি ধরে।
সে তখন গোঁ-গোঁ করতে করতে মাঠ চিরে সোজা উত্তর দিকে চলে যায়। সেখানে ঘন বাগান কালো তাল হয়ে আছে। আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, আচ্ছটি, বিছুটি কী নেই। মধ্যে দিয়ে সরু একটা পায়ে হাঁটা পথ।
রাগের চোটে সেই পথেই ঢুকে পড়ে ঘ্যাংচা। পথের একটু দূরে ঘন কলাবাগানের শুকনা কলাপাতা ঝুলে আছে। ওটায় যেই চোখ পড়ে, আবার সেই কে যেন বলে, ‘ওই রে পেতনি ঝুলে আছে!’ অমনি যে বেগে যাচ্ছিল, সেই বেগে ফিরে আসে ঘ্যাংচা। তারপর মাঠে বেরিয়ে সোজা দক্ষিণে হাক-হাক করে হেঁটে মাঠ শেষ করে আবুলের বাঁশঝাড়ের তলা দিয়ে গোয়ালঘরের পাশ দিয়ে মুখটুক খুব তিরিক্ষি করে চলতে থাকে। আবুলের গোয়ালঘরের বড় সব ফ্রিজিয়ান গরু, তাদের একটা দশাসই দামড়া দেড় হাত সাইজের শিং বের করে রেখেছে।
গোয়ালঘরের চালের তলা দিয়ে যেই শিং দুটো দেখা গেল, অমনি কে একজন বলল, ‘ওই রে হাম্বা শিং, তোরে গুঁতোয় দিং!’ ঘ্যাংচা এবার ত্যারচা মেরে ইউ টার্ন নিয়ে ছুটে পিছিয়ে এলো।
সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে। মাঠের মধ্যে সুপারিগাছের লম্বা একটা ছায়া। সেই ছায়ায় এসে দাঁড়াতেই ঘ্যাংচার মুখ দিয়ে মিনমিন সুরে একটা কথা বেরোয়, ‘কে আমাকে বাধা দেয়? কে আমার ভেতরে ভয় দেখায়?’ অমনি সেই কে একজন বলল, ‘কে আবার, নেকাব্বর মাস্টার!’ নেকাব্বর মাস্টার, অঙ্কের স্যার। ঘ্যাংচা মনে মনে সায় দিয়ে বলল, ‘কণ্ঠটাও ঠিক নেকাব্বর মাস্টারের মতো। এই মাস্টার আমাকে ক্লাসে খায়, বাইরে খায়, ঘুমের মধ্যেও খায়, এর একটা বিহিত করতেই হবে।’
ভোরবেলা, নেকাব্বর মাস্টার দোর খুলে বাইরে বেরিয়ে দেখেন দোরের গোড়ায় আধপোয়াটেক গুড়, তিনটে বিচি কলা, চারটে বেগুন আর দুটো সুপারির সঙ্গে একটা চিঠি। মাস্টার সদ্য ঘুমভাঙা মুখে হাই তোলার আগে দুই হাত ভরে চিঠিখানা তুললেন। সেখানে লেখা, ‘স্যার! আপনি ক্লাসে যা ইচ্ছা বলুন, কিন্তু খেলার মাঠেও ও রকম বললে আমি যাব কোথায়? তাই এগুলো দিলাম। আপনি আমাকে একটু ছাড় দেন।...ইতি আপনার অনুগত ছাত্র।’ নামের জায়গাটা কাটাকাটি করা, বোঝা যাচ্ছে না।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher