মাঝরাত; বৃষ্টির হানা—ঝিম কিড়কিড়
বয় ঝড়, কাঁপে ঘর, পাল্লাটা খিড়কির
জ্যৈষ্ঠের এই ঝড়, বাপ রে কী রূপ-দাপ
ডালপালা কড়মড়, আম পড়ে ধুপধাপ!
এ সময় কাঁথা মুড়ে বিছানায় কাত রই?
নই আমি সেই বোকা, ঘুমোবার পাত্রই
খাপছাড়া কাজ ছাড়া এ জীবন ঝুট বৈ
প্রয়োজনে সারা রাত ভিজে আম খুঁটবই।
ভূত-প্রেত, সাপ-খোপ, নেই ভয় দৈবের
কৌশলে খিল এঁটে ছাতা নিয়ে হই বের
ভয় তবে একটাই, বাপ যদি টের পায়
রক্ষেটা হতে পারে দয়ালের কেরপায়!
আমবাগ নিকটেই, হাঁটা পথ, ওই দূর
যোগ দেয় সহপাঠী ডানপিটে মঈদুর
গিয়ে দেখি, হীরকের সবগুলো টুকরোই
এসে গেছে; চিন্তা কি? কাল বার শুক্রই।
খাঁ বাড়ির বেটা-বেটি, জমায়েত সব্বাই
বুলা পিসি, দিলু খালা, বাতরোগী রব ভাই
ঢুলি রাম, কুলি শের, পালাকার দিলদার
সাড়া পাই জিতু খালু, দীপ, স্বপ্নিলদার।
আম পড়ে ধুপধাপ; কে কুড়োয়! হুল্লোড়!
এর সাথে নেই যোগ বাজারের মূল্যর
ঠেলাঠেলি, ধাক্কা বা বড়জোর খামচাই
ভিজে ভিজে একাকার, কবজায় আম চাই!
জল কমে আকাশের ওল্টানো কাপটায়
আম তবে পড়ছেই বাতাসের ঝাপটায়।
টর্চের আলো ফেলে কে যে গলা খাঁকরায়!
আসছে কে? আব্বা কি? এসে যদি পাকড়ায়!
সাথে কে গো? আঁচ পাই আম্মার কণ্ঠের
ছেলে নেই ঘরে, বুঝি পেল এতক্ষণ টের!
খোঁজে বের হয়েছেন গুণধর পুত্রের
পালাই, পাশেই ঝোপ নাটা আর ধুতরের
কিশোরের বুকে কত শাসনের বিষ সয়?
চোখ মেলে চাই—লাগে ঘোরতর বিস্ময়!
এই বুঝি এই দেশে জ্যৈষ্ঠের ভাব-বাও
আম্মাকে সাথে নিয়ে আম খোঁটে আব্বাও!
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher