সাহিত্য

নূপুর ভূত

পৃথ্বীজিৎ চৌধুরী

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৪ | ৬১

রাতের বেলা বাবা এসেছে। আর স্কুলে আজই শুনে এসেছি একটা ভূতের সিনেমা বেরিয়েছে, যেটা আমি ছাড়া নাকি সবাই দেখে ফেলেছে।

বাবা বাড়ি ফিরতেই বায়না শুরু করলাম, আজকেই মোবাইলে  সিনেমাটা দেখাতে হবে। অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর বাবা শেষ পর্যন্ত হার মানলেন। একটাই শর্ত, পরের দিন ক্লাস টেস্টে ফুল মার্কস আনতে হবে। ব্যস, চুক্তি সই! সেটা একটা ভূতের সিনেমা।

সেখানে একটা মহিলা সারা বাড়ি নূপুর পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নূপুরে ঝমঝম করে আওয়াজ হচ্ছে। সেটা দেখে ভয়ে ভয়ে শুতে গেলাম। হঠাৎ করে ঘুম ভেঙে গেল।

কোথা থেকে যেন একটা নূপুর বাজছে, ঝুমঝুম।

মনে হলো, কে যেন আমার মাথার পাশ থেকে নূপুর পরে চলে গেল। পায়ের কাছে একটা চাদর ছিল, ভয় পেয়ে সেটা টেনে গরমের মধ্যেও মাথা ঢেকে শুয়ে পড়লাম ঘামতে ঘামতে। সকালবেলা মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙল। মা বললেন, ‘তোর কি কাল মাথা খারাপ হয়েছিল? এত গরমের মধ্যে চাদর দিয়ে মাথা মুড়ে শুয়েছিলি রাতে?’ বললাম, কাল জানো তো মা, ওই, ওই ভূতটা, মানে সিনেমার নূপুর পরা ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, ঝুমঝুম করে আওয়াজ হচ্ছিল নূপুরের। আমি ছায়াও দেখেছি।

বিশ্বাস করো, কাল সত্যিই এসেছিল। মা বললেন, ‘ভূতের সিনেমা বা গল্প পড়তে এ জন্যই তোকে বারণ করি। তুই তো এক নম্বরের হাঁদার ডিম। কাল রাতের বেলা আমার ওড়নাটা, যেটার নিচে ঝুনঝুনি লাগানো আছে, সেটা কেচে বারান্দায় মেলেছিলাম। হয়তো রাতে হাওয়া দিচ্ছিল, তারই শব্দ হচ্ছিল, আর তুই কি না ভেবে বসলি ভূত এসে তোর মাথার ওপর নাচছে। হায়রে ভগবান, কী ভীতু আমার ছেলেটা।’ মাথা চুলকে বললাম, আরে না মা, আমি তো মজা করছিলাম, তুমি এটাকে সত্যি ভেবে নিলে? তুমি বোকা হয়ে গেলে, আজ তো এপ্রিল ফুল ডে। দেখো কেমন ফুল বানালাম তোমাকে।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher