সুপ্রিয় দর্শক শুকরিয়া স্বাগতম
বেলতলা মাঠ থেকে আমি শেখ টমটম।
পাশে আছে ইদ্রিজ
মাঠে লোক গিজগিজ
হৈচৈ শোরগোল ঢোল বাঁশি বাজছে
ফাইনাল খেলা আজ শুরু হতে যাচ্ছে।
মুরগির ব্যাপারী
মকবুল রেফারি
তেলমাখা টাক তার করিতেছে চকচক
মাঠে গরু চরিতেছে পরিবেশ ঝকঝক।
উৎসবে মুখরিত বেলতলা মাঠটায়
খেলা শুরু ফাইনাল ঠিক সাড়ে চারটায়।
দুই দলে খুব তেজ
ম্যাচ হাই ভোল্টেজ
আজ কারা গোল খাবে—‘ইদ্রিজ তুই বল’
বল নিয়ে প্রস্তুত মাঝমাঠে দুই দল।
দর্শক ভাই-বোন
আর বাকি কিছুক্ষণ
খিদে পেলে ঝালমুড়ি বুট ভাজা ছোলা খান
মগডালে ঝুলে আছে কতিপয় পোলাপান।
রেফারির বাঁশি ‘পিপ্’ বেজে গেছে ওই যে
ক্যাপ্টেন কালিপদ, হাটে বেচে দই যে।
দুর্বার ছোটে বল
বল পায়ে পরিমল
ছুটছে সে থপথপ, ঠ্যাঙে যেন বাত তার
লাল্টুর লং পাসে বল পেল সাত্তার
সাত্তার দিল কিক
হেড দিল সিদ্দিক
পল্টুর শটে বল ছুটে ডান প্রান্তে
উড়ে গেল ধানক্ষেতে, টুলু গেল আনতে।
ঠ্যাং সরু আতিয়ার
ল্যাং তার হাতিয়ার
তেড়ে আসে সেন্টু
টেনে ধরে প্যান্টু
ভুল করে টান দেয় রেফারির জার্সি
কান ধরে বলে—‘স্যার ভুলে টান মারছি।’
নন্দ ও নজরুল
পাস দেয় নির্ভুল
কার্তিক ছোটে না
পড়ে গেলে ওঠে না
পেট চেপে শুয়ে কাত ভাত বুঝি খাওয়া কম
অভিযোগ দিয়ে বলে—‘এই বলে হাওয়া কম।
মাইকের তালে বাজে—‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটি
জানালায় কার্নিশে খালাম্মা আন্টি
ছাদ থেকে ভেসে আসে চিৎকার স্বর্ণার
হ্যান্ডবল! হাততালি! কর্নার! কর্নার!
বল নিয়ে বলরাম ছোটে সাঁইসাঁই রে
কিক খেয়ে বল কই? সীমানার বাইরে।
পুকুরেতে ভাসে বল
ঢিল ছোড়ে দুই দল
বল তুলে ফের শুরু, কী যে লোমহর্ষক!
গোলে মার! গোলে মার! চিল্লায় দর্শক।
লাগাতার লাবুটার লাথি আর ধাক্কায়
ভুল পাসে বল শুধু মাঠে ঘুরপাক খায়।
ফুটবলে হেড দিয়ে হাবু খায় চক্কর
বল নিয়ে স্যাৎ করে ঢুকে পড়ে বক্কর।
বক্কর বল মারে বেঁকে যায় বারবার
ট্যারা’ চোখে দেখছে সে দুইখানা গোলবার।
ছুটে ছুটে রেফারিও চোখে দেখে ঝাপসা
সন্ধ্যায় মাঠ দেখে ভাসা ভাসা আবছা।
বাঁশিটাশি হারিয়ে
এককোণে দাঁড়িয়ে
টেকো মাথা চুলকে
ভুল করে লালকার্ড দেয় মনিরুলকে।
এরপর মাঠে নামে টিংটিঙে পটলা
বল নিয় ঢুকে যায় ভেদ করে জটলা।
পটলার কিকে শেষে
রেফারির ভুঁড়ি ঘেঁষে
বল জালে আটকাল, মকবুল হাসল
গোল! গোল! উল্লাসে বেলতলা ভাসল।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher