যুক্তরাষ্ট্রে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
গ্রিনকার্ড পেতে লাখো ডলারের বিনিময়ে ভুয়া বিয়ে বাণিজ্য
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪৬ | ৬২
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের গ্রিনকার্ড ও বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার নামে ভুয়া বিয়ের একটি বড় চক্রের সন্ধান পেয়েছে ফেডারেল তদন্তকারীরা। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১০ বছর ধরে চলা এই চক্রের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলারের বিনিময়ে বিদেশিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সাজানো বিয়ের আয়োজন করা হতো। প্রতিটি বিয়ের জন্য নেওয়া হতো ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার। এভাবে কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করার অভিযোগে চক্রের প্রধানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। বুধবার (২১ অক্টোবর) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর একজন আগের একটি অস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভার এলাকার বাসিন্দা জেনিফার গঞ্জালেজকে (৪৩)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গঞ্জালেজ বছরে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি সাজানো বিয়ের ব্যবস্থা করতেন বলে অভিযোগ। অন্তত এক দশক ধরে তিনি এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অর্থ দেওয়া হতো। অভিযুক্তদের কয়েকজন একাধিক বিয়েতেও অংশ নিয়েছেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব বিয়েকে প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক হিসেবে দেখানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হতো। বিয়ের আংটি বিনিময়, বর-কনের হাসিমুখের ছবি, একসঙ্গে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য নথিপত্র তৈরি করা হতো। এসব ছবি ও কাগজপত্র ইউএসসিআইএসের কাছে জমা দিয়ে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও গ্রিনকার্ডের আবেদন করা হতো।
এমনকি বিয়েকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং জীবনবিমার কাগজপত্র তৈরির পরামর্শও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন তদন্তকারীরা। ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, গঞ্জালেজের পাশাপাশি এরিকা ড্যানিয়েলস (২৯), চেরিস আলেহান্দ্রো (৩৯), আমারা পিউ (৩১), জেসিকা টাভারেস (৩১) এবং জেলিন হিলের (২৬) বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানে সহায়তা, এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র এবং ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের ইউএস অ্যাটর্নি লিয়া ফোলি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশন সুবিধা আদায়ের সুযোগ তৈরি করেছিল। তাঁর মতে, যারা নিয়ম মেনে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন, এ ধরনের প্রতারণা তাঁদের প্রতি অবিচার।
তদন্তকারীদের দাবি, জেনিফার গঞ্জালেজ ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ডোমিনিকান রিপাবলিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জমি-বাড়ি কেনার কাজে বিনিয়োগ করেছেন।
এ ছাড়া গঞ্জালেজের বিরুদ্ধে সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি স্ন্যাপের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়া বিয়ের চক্র পরিচালনার সময় তিনি স্ন্যাপের মাধ্যমে পাওয়া ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন অভিযুক্ত স্ন্যাপের আবেদনে নিজেদের অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করলেও একই সময়ে বিদেশি নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে ইমিগ্রেশন আবেদন করেছিলেন। এ ছাড়া আবাসন ও বেকারত্ব-সংক্রান্ত সুবিধা গ্রহণেও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুয়া বিয়েতে অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের কাউকে এখন পর্যন্ত এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়নি। তবে তাঁদের ইমিগ্রেশন আবেদন বা স্ট্যাটাসের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অবস্থানে সহায়তা ও সংশ্লিষ্ট ষড়যন্ত্রের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং ভুয়া বিয়ে ও এ-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। প্রতিটি অভিযোগে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বড় ভুয়া বিয়ের চক্রের বিরুদ্ধে ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই চক্রের বিরুদ্ধে প্রধানত চীনা নাগরিকদের গ্রিনকার্ড পাইয়ে দিতে সাজানো বিয়ের আয়োজনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ম্যাসাচুসেটসের সর্বশেষ মামলার তদন্ত এখনো চলছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher