সাহিত্য

ভেরি মাচ হলো মাছ

মাসুম মাহমুদ

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০২:১১ | ১১৩

সেদিন দুপুরে শশী ওর মা-বাবার সঙ্গে খেতে বসেছে। এমন সময় স্কুল থেকে শশীর বড় ভাই শাওন বাড়ি ফিরল।

ছেলেকে এত তাড়াতাড়ি চলে আসতে দেখে বাবা জানতে চাইলেন, ‘কী ব্যাপার, শাওন! আজ এত তাড়াতাড়ি চলে এলে যে?’
শাওন হাসতে হাসতে বলল, ‘আজ স্কুলে পরীক্ষার ফল দিয়েছে, বাবা। তাই তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেছে।’

পরীক্ষার ফল! কথাটা শুনেই শশীর চোখ বড় বড় হয়ে গেল। ভাতের থালা ঠেলে দিয়ে সে বলতে শুরু করল, ‘ফল দিয়েছে? কোথায়? আমাকেও দাও! আমি ফল খাব!’

বাবা হেসে বললেন, ‘আরে না রে! এটা সেই ফল নয়।

এটা পরীক্ষার ফল। মানে পরীক্ষায় কে কত নম্বর পেয়েছে তার খবর।’
কে শোনে কার কথা! শশী কিচ্ছু বুঝতে চাইল না। তার চিৎকার-চেঁচামেচি চলছেই, ‘না, আমি পরীক্ষার ফল খাব।

এখনই খাব!’
অনেক বুঝিয়েও লাভ হলো না কোনো। শশী ঠিক ঠিক বলে দিল, ‘পরীক্ষার ফল খেতে না দিলে বাবার সঙ্গে আড়ি!’

এবং সত্যি সত্যিই সে সারা দিন বাবার সঙ্গে রাগ করে থাকল। কিছুই খেল না। মা রাতে বুঝিয়েসুজিয়ে খাওয়ালেন। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে গল্প শোনাতে শোনাতে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।

পরদিন সকালে আবার নতুন ঘটনা ঘটল। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি। শাওনের বাবা বাজারে যাবেন মাছ কিনতে। শশী ছাতা হাতে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে বাবাকে ছাতাটা দেবে বলে। তখনই শুনতে পায় বাবা ওর মাকে বলছেন, ‘আজ কী মাছ আনব গো?’

মা বললেন, ‘ছোট মাছ এনো। মলা, ঢেলা, কাচকি, পুঁটি।’

শাওন-শশীর বাবার সঙ্গে ওদের মাও বের হবেন। ব্যাংকে জরুরি কী কাজ পড়েছে তাই। শাড়ি পরে মোটামুটি রেডি হয়ে আছেন। কিন্তু শাড়ির আঁচলটা ঠিকঠাক হচ্ছিল না। শাওন মায়ের শাড়ির আঁচল ঠিক করে দিচ্ছিল। আঁচল ঠিক হয়ে গেলে মা খুশি হয়ে শাওনকে বললেন, থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ!

কিন্তু শশীর কানে গেল ‘থ্যাংক ইউ ভেরি মাছ!’ শুনে শশী তো মহাখুশি! সে ভাবল, মা নিশ্চয় বাবাকে মলা, ঢেলা, কাচকি, পুঁটি মাছের সঙ্গে ভেরি মাছও আনতে বলেছেন। সে দৌড়ে গিয়ে মাকে বলল, ‘মা, ভেরি মাছের ঝোল বেশি করে রান্না করবে কিন্তু!’

শশীর কথা শুনে মা তো অবাক, ‘ভেরি মাছ আবার কী!’

‘ওই যে তুমি বাবাকে আনতে বললে!’

তারপর শশী সব খুলে বলল। সব শুনে শশীর মা-বাবা আর ভাই হেসে গড়াগড়ি খেতে লাগল। কিন্তু শশীর মুখ গোমড়া। সে বলল, ‘তোমরা শুধু হাসো! আমাকে পরীক্ষার ফলও খেতে দাও না, আবার ভেরি মাছও খেতে দাও না!’

শাওন তখন ছোট ভাইটাকে কোলে তুলে নিয়ে বলল, “ভাই শোন, পরীক্ষার ফল খাওয়া যায় না। সেটা নম্বরের ফল। আর ‘ভেরি মাচ’ কোনো মাছও নয়। এটা ইংরেজি কথা। এর মানে হলো ‘অনেক ধন্যবাদ’।”

শশী কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ বলল, ‘ও আচ্ছা! তাহলে পরীক্ষার ফল খাওয়া যায় না, আর ভেরি মাছ ধরাও যায় না! ঠিক আছে, আমি পরীক্ষার ফল খাব না। তবে আসল ফল হলে আমাকে কিন্তু দেবে!’

বাবা বললেন, ‘অবশ্যই দেব। আজ বাজার থেকে আম আর পেয়ারা আনব।’

শশী খুশিতে লাফিয়ে উঠল, ‘হ্যাঁ, বাবা! এটাই তো আসল ফল!’

পরদিন  দুপুরে শশী আবার মা, বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে খেতে বসেছে। তখন বাবা শশীকে বুঝিয়ে বললেন, ‘শোনো বেটা, সব কথা শুনলেই তার মানে বোঝা যায় না, আগে ভালো করে বুঝতে হয়।’

আম, পেয়ারা আর মাছের ঝোল খেতে খেতে শশী বাবার কথাটা বুঝতে পারল। আর সেদিন থেকে ‘পরীক্ষার ফল’ আর ‘ভেরি মাচ’ নিয়ে আর কখনো ভুল করেনি সে। তবে অন্য একটা গণ্ডগোল করে ফেলেছিল। তা-ও সেটা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে চায়নিজ খেতে গিয়ে। শশীর ভাই শাওন খেতে খেতে বাবাকে বলল, ‘বাবা, সল্টটা দাও তো এদিকে।’

‘কাঁচা সল্ট বেশি খাসনে কিন্তু’—এই বলে বাবা সল্টটা শাওনের দিকে এগিয়ে দিলেন।

শশী তখন পেছন ফিরে ওর বয়সী শিশুদের খেলতে দেখছিল প্লেগ্রাউন্ডে। তাতে কি! বাবা আর ভাইয়ের কথাটা ঠিকই শুনতে পেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সামনে ফিরে বলল, ‘আমিও সল্ট খাব, আমাাকেও দাও।’

বাবা সল্টের বাটিটা এগিয়ে দিলেন শশীর দিকে। কিন্তু এটা তো লবণ! শশী লবণ খাবে না। ওর সল্টই চাই।

তবে শশীর সল্ট খাওয়ার বায়নার পর রেস্টুরেন্টে কী কাণ্ড ঘটেছিল, সেটা শুনলে তোমরাও হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাবে। সেই গল্প থাক আরেক দিনের জন্য!

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher