আমেরিকা

আমেরিকা

প্রথম কোনো শহরে পানিশূন্য হওয়ার শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৪:৩৩ | ২০

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর কর্পাস ক্রিস্টিতে ভয়াবহ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় এ শহরটির সম্পূর্ণ পানিশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিন লাখের বেশি মানুষের  এ শহরে দীর্ঘদিন ধরে  খরা থাকায়, পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং নতুন পানির উৎস গড়ে তুলতে বিলম্ব হওয়ায় সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

শহরের পানিসংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে দ্রুত শিল্পায়ন। কর্পাস ক্রিস্টি অঞ্চলে গড়ে ওঠা বড় বড় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করছে। ফলে খরা ও চরম আবহাওয়ার কারণে পানির উৎসগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

২০২২ সালে সেখানে একটি প্লাস্টিক রাসায়নিক কারখানা চালু হয়। কারখানাটি শীতলীকরণ কাজে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিমাণ পানি কর্পাস ক্রিস্টির সব বাসিন্দার দৈনিক পানি ব্যবহারের সমান।

পানিসংকট মোকাবিলায় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই প্ল্যান্টে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। তবে অর্থের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং স্থানীয় বিরোধিতার কারণে প্রকল্পটি এখনো আটকে আছে।

এদিকে জলবায়ুর পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেক্সাসে একাধিক তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। এতে শহরের প্রধান জলাধারগুলোর পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গেছে।

ইনসাইড ক্লাইমেট নিউজের সাংবাদিক ডিলান ব্যাডোর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় কর্পাস ক্রিস্টি পানিশূন্য হওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থায় পৌঁছেছে।’ তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত কিছুটা স্বস্তি দিলেও শহরের মজুত পানি মাত্র এক বছরের চাহিদা মেটানোর মতো রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংকট কাটাতে বিভিন্ন বিকল্পও বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে গভীর ভূগর্ভস্থ কূপ খনন এবং শিল্পকারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াজাত বর্জ্য পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টটি চালু হলে প্রতিদিন কয়েক শ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে এবং এটি শেষ হতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

পানির ব্যবহার কমাতে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাসিন্দাদের বাগানে পানি দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। গাড়ি ধোয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হতে পারে। আবার সীমিত সময়ের জন্যও পানি সরবরাহ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্পাস ক্রিস্টির এই সংকট কেবল একটি শহরের সমস্যা নয়। ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং কমে আসা মিঠা পানির উৎসের কারণে বিশ্বের অনেক শহরই ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher