আমেরিকা

আমেরিকা

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে কঠিন বিকল্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৪:৩১ | ১৫

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরান ইস্যুতে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রতিবার পরিস্থিতি নতুন মোড়ে গেলেও তার সামনে থাকা বিকল্পগুলো আরও সীমিত হয়ে আসছে। একই সঙ্গে যেকোনো সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক মূল্যও বাড়ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, টানা ১৩ রাত বিমান হামলার পর তিন রাত ধরে হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য কূটনীতির জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করা। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার কিছু ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তেহরান তাদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রথম থেকেই ইরানকে আরও ছাড় দিতে বাধ্য করতে সামরিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। হামলা বাড়িয়েও ওয়াশিংটন কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিকল্প থাকলেও সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।

প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সব শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে। এতে তার কৌশলগত পরিসরও ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে। এদিকে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে। গত সপ্তাহে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্য আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর দিয়ে বিকল্প তেল পরিবহন পথেও হামলার হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মজুতও উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে।

এসব ঘটছে এমন সময়ে, যখন আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টি এমনিতেই কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে দাবি করেছেন, তেহরান আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে যুদ্ধ আরও বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেইন বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন।

আরেকটি বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরও কঠোর করতে পারে। এর লক্ষ্য হবে তেহরানের আয় কমিয়ে দেওয়া এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অর্থায়ন দুর্বল করা। তবে এ ধরনের কৌশলের ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগবে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়াতে পারে।

আরেকটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে আগের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করা। তবে তেহরান তখনই এতে রাজি হতে পারে, যদি হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সেখান থেকে অর্থ আদায়ের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এমন শর্ত মেনে নেওয়া হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের পরাজয় হিসেবে দেখা হবে।

এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি নতুন কৌশল নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উচিত কংগ্রেস ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু করা। তিনি বলেন, এমন একটি সমাধান প্রয়োজন, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ না পায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি যুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় করতে না হয়। কেননা এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

তবে পাঁচ মাসের যুদ্ধের পরও কার্যকর নতুন কোনো বিকল্প সামনে আসেনি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিকভাবে দুর্বল হলেও ইরান এখনো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম। ট্রাম্প শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের স্থলযুদ্ধে জড়াতে চাননি। নির্বাচনি প্রচারেও তিনি এমন যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে এই যুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। সূত্র: সিএনএন

আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher