আমেরিকা

আমেরিকা

৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি ভারতীয় খাদির খান মোহাম্মদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০০ | ২০

ছবি: সংগৃহীত

জেনেটিক পরীক্ষার নামে মেডিকেয়ারে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সন্দেহজনক বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক খাদির খান মোহাম্মদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় তাঁকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করেছে। তিনি বর্তমানে ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থান করতে পারেন বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেয়ারকে লক্ষ্য করে ওই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। খাদির খান মোহাম্মদ টেক্সাসের রিচার্ডসনভিত্তিক আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবস এলএলসির মালিক ছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেডিকেয়ারে জেনেটিক পরীক্ষার প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের দাবি জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেডিকেয়ার অন্তত ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, জমা দেওয়া পরীক্ষার অনেকগুলো অনুমোদিত চিকিৎসকেরা চাননি কিংবা ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেননি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাবিপত্রে যেভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে সেভাবে সেবা দেওয়া হয়নি। ফলে এসব বিল মেডিকেয়ার থেকে অর্থ পাওয়ার উপযুক্ত ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চিকিৎসকদের অজান্তে এবং অনুমতি ছাড়াই তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। যেসব মেডিকেয়ার গ্রাহীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কোনো চিকিৎসাসেবার সম্পর্ক ছিল না, তাঁদের নামেও জেনেটিক পরীক্ষার দাবি জমা দেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা এসব পরীক্ষা দিতে বলেননি এবং রোগীদের চিকিৎসার কাজেও পরীক্ষাগুলোর ফল ব্যবহার করা হয়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
সরকারি তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালের মাত্র ১০ দিনের একটি সময়সীমার মধ্যে সন্দেহজনক দাবির বিপরীতে মেডিকেয়ার প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিল। খাদির খান মোহাম্মদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে প্রায় ৬০ লাখ ডলার জব্দ করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মামলার সারসংক্ষেপে জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালের জুনে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি খাদির খান মোহাম্মদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দেয়। মামলাটি পরিচালনা করছেন টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি রেনি হান্টার। ১৯৮০ সালের ৫ জুলাই জন্ম নেওয়া খাদির খান মোহাম্মদের বর্তমান বয়স ৪৬ বছর। সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং ওজন আনুমানিক ১৭০ পাউন্ড। আগে তিনি টেক্সাসের রিচার্ডসনে বসবাস করতেন। তবে তাঁর সম্ভাব্য বর্তমান অবস্থান ভারতের হায়দরাবাদ বলে উল্লেখ করেছে ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাদির খান মোহাম্মদকে কোথাও দেখা গেলে অথবা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকলে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে জানানো যাবে। সংস্থাটির হটলাইন নম্বর ৮৮৮ ৪৭৬ ৪৪৫৩। তবে সরকারি সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, খাদির খান মোহাম্মদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়গুলো এখনো অভিযোগমাত্র।

আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher