নিউইয়র্কে আ্যসালের ১৯তম কনভেনশন অনুষ্ঠিত, শ্রমিক অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৩৪ | ৬২
দক্ষিণ এশীয় আমেরিকানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শ্রমিকস্বার্থ সংরক্ষণ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করার প্রত্যয় নিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (আ্যসাল)-এর ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার ম্যানহাটনে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল ৩৭ (ডিসি ৩৭) ইউনিয়ন হলে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, শ্রমিকনেতা, কমিউনিটি সংগঠক ও নাগরিক অধিকারকর্মী অংশ নেন।
সম্মেলনে ২৫ জনের বেশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান কমিউনিটির অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আ্যসালের সাংগঠনিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা প্রতিনিধিরা শ্রমিক অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, অভিবাসীদের স্বার্থরক্ষা এবং নীতিনির্ধারণে দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন, সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন, পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস, নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলি, অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং স্টেট সিনেটের মেজরিটি লিডার আন্দ্রেয়া স্টুয়ার্ট-কাজিনস। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সিনেটর, অ্যাসেম্বলি সদস্য ও সিটি কাউন্সিল সদস্যরা এতে যোগ দেন।
নিউইয়র্কের বাইরের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন জর্জিয়ার সিনেটর শেখ রহমান ও ভার্জিনিয়ার সিনেটর মোহাম্মদ সাদ্দাম। তাঁদের অংশগ্রহণ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সঙ্গে আ্যসালের যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আনে।
শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড ফেডারেশন অব টিচার্সের (ইউএফটি) প্রেসিডেন্ট মাইকেল মালগ্রু, নিউইয়র্ক স্টেট নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (এনওয়াইএসএনএ) প্রেসিডেন্ট ন্যান্সি হ্যাগানস এবং কমিউনিকেশন ওয়ার্কার্স অব আমেরিকার (সিডব্লিউএ) লোকাল ১১৮০-এর প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া মিডলটন। এ ছাড়া কোয়ালিশন অব ব্ল্যাক ট্রেড ইউনিয়নিস্টস, এনএএসিপি এবং বিভিন্ন শ্রমিক ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, মেরিল্যান্ড, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ারসহ বিভিন্ন এলাকার আ্যসাল নেতারাও এতে যোগ দেন।
শ্রমিক আন্দোলন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ন্যান্সি হ্যাগানস ও গ্লোরিয়া মিডলটনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। কমিউনিটি সংগঠক রুনু নেওয়াজকেও জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয়।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সম্মেলনে ভোটার নিবন্ধন, নাগরিক শিক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, আদমশুমারিতে অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও কমিউনিটি সংগঠনে সক্রিয়তা দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নীতিনির্ধারণে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
আ্যসালের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ করিম চৌধুরী বলেন, “আমাদের শক্তি আমাদের ঐক্যে, আমাদের কণ্ঠস্বর আমাদের ভোটে। সংগঠিত হওয়া, শিক্ষা এবং সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণের ওপরই নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ।”
তিনি বলেন, শুধু নির্বাচনের সময় দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর সমর্থন চাইলেই হবে না; সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাদের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। সিটি হল থেকে স্টেট ক্যাপিটল, এমনকি হোয়াইট হাউস পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি এড়িয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ও কর্মসূচি যাচাই করে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান আ্যসাল সভাপতি।
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, সেক্রেটারি হরজিৎ সিং মিনহাস এবং নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জামিলা উদ্দিন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস মাফ মিসবাহ উদ্দিন অতিথিদের স্বাগত জানান এবং আ্যসালের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কনভেনশন আয়োজনে হোস্ট কমিটির ইব্রাহিম বড়ভুঁইয়া, ফারুক হোসেন ও গোলাম ফারুক শাহীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদ এবং কনভেনশন চেয়ারম্যান ড. সুহাইলও আয়োজন সফল করতে সক্রিয় ছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে মানহা মানহা, কাজী সাপওয়ান, ইরফান ও জাইমা হোসেন অভ্যর্থনা ও নিবন্ধন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
সমাপনী পর্বে আয়োজকেরা সম্মেলনে অংশ নেওয়া জনপ্রতিনিধি, শ্রমিকনেতা, ব্যবসায়ী, স্পনসর, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের সাংগঠনিক নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শ্রমিক ইউনিয়ন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
আমেরিকায় বাঙ্গালী থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher