রাজনীতি
আ. লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৮ | ৫৭
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রসিকিউশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই সাত নেতা হলেন—আমির হোসেন আমু, দীপু মনি, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, মির্জা আজম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
জানা গেছে, প্রতিবেদনটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করছে প্রসিকিউশন। যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।
তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হামলা, উসকানি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণের মতো অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না করা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এই সাত আসামির মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান ও মির্জা আজমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রথমবারের মতো বিচার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। তবে বিচার শুরুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
মামলার সাত আসামিই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তাদের ভূমিকা ছিল। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের ভূমিকা, আন্দোলন দমনে কথিত নির্দেশনা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ এই মামলায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এখন তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করলে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। পরে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আসামিদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম ও রায়ের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher