সাত বছরের শিশুর নাকের নিচে হঠাৎ গোঁফের রেখা; বয়সের তুলনায় যেন ভারিক্কি হয়ে উঠছে। আবার কোনো মেয়েশিশুর হঠাৎ ছয় বছরেই মাসিক শুরু হয়ে গেল। সময়ের অনেক আগে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ চলে এলে অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। আবার অনেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। যদিও একে গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। বিষয়টা হরমোনজনিত সমস্যা। আর এর পেছনে থাকতে পারে মস্তিষ্কের ছোট্ট গ্রন্থি পিটুইটারির কোনো রোগ।
কারণ কী
সময়ের আগে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ দেখা দেওয়ার এ সমস্যাকে বলা হয় প্রিকোসিয়াস পিউবারটি। অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনের কারণ হতে পারে পিটুইটারি মাইক্রোএডেনোমা বা পিটুইটারির ক্ষুদ্র টিউমার। অনেক সময় টিউমার ছাড়াও প্রিকোসিয়াস পিউবারটি হতে পারে। টিউমারের কারণে হলে একে সেন্ট্রাল প্রিকোসিয়াস পিউবারটি বলে। এ টিউমারগুলো সাধারণত ক্ষুদ্রই হয়। মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের ১০ মিলিমিটারের (১ সেন্টিমিটার) কম আকারের টিউমারকে মাইক্রোএডিনোমা বলা হয়।
লক্ষণ কী
পিটুইটারি গ্রন্থি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে। এর মধ্যে রয়েছে এলএইচ ও এফএসএইচ, যা বয়ঃসন্ধির পরিবর্তনের জন্য জরুরি। আবার কৈশোরে গ্রোথ হরমোনের প্রভাবে কিশোর–কিশোরীরা দ্রুত বাড়ে। কোনো কারণে এই পিটুইটারি গ্রন্থিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অকালে অতিরিক্ত হরমোন ক্ষরণের ফলে অকালবয়ঃসন্ধি বা প্রিকোসিয়াস পিউবারটি, শরীরের দ্রুত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে পারে।
পিটুইটারি গ্রন্থি যেহেতু চোখের পেছনে করোটির অভ্যন্তরে থাকে, তাই এতে কোনো টিউমার হলে বা এর আকার বড় হলে মাথাব্যথা, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দেয়।
নন-ফাংশনিং টিউমার বা যেসব টিউমার হরমোন তৈরি করে না, সেগুলোতে সচরাচর কোনো লক্ষণই থাকে না। অন্য কোনো কারণে মস্তিষ্কের এমআরআই করতে গিয়ে হঠাৎ এটি ধরা পড়ে। তখন একে ইন্সিডান্টোলেমা বলে।
চিকিৎসাপদ্ধতি
মূলত টিউমারটি ফাংশনিং (হরমোন তৈরি করছে) নাকি নন-ফাংশনিং এবং রোগীর শারীরিক লক্ষণের ওপর নির্ভর করে। পর্যবেক্ষণ বা ওয়াচফুল ওয়েটিং: নন-ফাংশনিং টিউমারে সাধারণত কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট সময় পরপর এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শে হরমোন টেস্ট, চোখের পরীক্ষা ও এমআরআই করে পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট।
জীবনযাপন থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher