বাংলাদেশ

রাজনীতি

দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:০৮ | ১৭

দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে তরুণ সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথ কেউ রোধ করতে পারবে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে যুবসমাজকে পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এইবার আপনারা আমাকে বলেন, এতগুলো মানুষ—আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আপনাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে দেশটা কীভাবে আমরা গড়ে তুলব। এই দেশটা আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন। কাজেই আসেন, আগামী ৩ মাস যে ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবো। হয়তো আমরা শতভাগ পারবো না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারবো।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু শতভাগ নির্মূল করা হয়তো পুরোপুরি সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত পদক্ষেপ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য আগামী তিন মাস দেশজুড়ে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর কথা জানিয়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে নাগরিকদের অন্তত এক ঘণ্টা নিজ নিজ আঙিনা পরিচ্ছন্নতার কাজে দেওয়ার আহ্বান জানান। আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি ‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন করি।

ডেঙ্গুর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস চলবে। ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে মাঠপর্যায়ে এই অভিযান পরিচালিত হবে। মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher