ব্রণের সমস্যা দূর করতে পিম্পল প্যাচ যেভাবে কাজ করে
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:১৩ | ৭৬
সামনে জরুরি কোনো অনুষ্ঠান বা প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করার দিন। অথচ আগের রাতেই মুখে উঁকি দিল একটি লালচে, যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আঙুলে চাপ দিয়ে ব্রণের পুঁজ বের করেন। এতে লাল হয়ে ফুলে ওঠে ত্বক, তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত ও দাগ। এমন সংকট চটজলদি কাটাতে তরুণ প্রজন্মের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পিম্পল প্যাচ।
আজকাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিদেশি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পিম্পল প্যাচ। ছোট, স্বচ্ছ ও বিভিন্ন আকৃতির এই স্টিকারগুলো মুখের ব্রণের ওপর বসিয়ে দিলেই নাকি মুশকিল আসান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পিম্পল প্যাচ কি সত্যিই ব্রণের স্থায়ী সমাধান দেয়, নাকি এটি নিছকই সাময়িক রূপচর্চার কৌশল?
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশারদ শারমিন কচির কাছ থেকে জানা গেল, প্যাচগুলো ব্রণের জন্য কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নয়; বরং কার্যকর সাময়িক একটি সমাধান। ব্রণের ওপর একটি কৃত্রিম ও প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল বা ব্যারিয়ার দেয় পিম্পল প্যাচ।
প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক পরিশ্রম; যেমন একটু দ্রুতগতিতে হাঁটা দীর্ঘায়ু পেতে সাহায্য করতে পারে। নতুন এক গবেষণায় এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
যেভাবে কাজ করে
অধিকাংশ সময় ব্রণের ভেতর একধরনের তরল ও পুঁজ থাকে, যা সংক্রমণ ও প্রদাহের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। পিম্পল প্যাচ ত্বকের ওপর আটকে থেকে ভেতরের তরল শুষে নেয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা, এটি ব্রণের স্থানটিকে ঢেকে রাখে তাই হাত দেওয়া বা খুঁটাখুঁটির সুযোগ থাকে না। ফলে আঙুলের মাধ্যমে নতুন করে সেখানে জীবাণু ছড়ায় না এবং প্রদাহ বা লালচে ভাব দ্রুত কমে আসে। এ ছাড়া এগুলো স্বচ্ছ হওয়ায় বাইরে বের হওয়ার সময় সহজে চোখেও পড়ে না।
সব ব্রণে কি এটি কাজ করে
শারমিন কচি বলেন, পিম্পল প্যাচ সব ধরনের ব্রণে সমানভাবে কাজ করে না। এটি কেবল ত্বকের উপরিভাগে হঠাৎ ওঠা সক্রিয় ও হালকা ব্রণের জন্য উপযুক্ত। যেসব ব্রণ ত্বকের অনেক গভীরে থাকে (যেমন সিস্টিক একনে)। দীর্ঘমেয়াদি হরমোনজনিত ব্রণের সমস্যায় পিম্পল প্যাচ খুব একটা কাজে আসে না। এ জন্য ত্বকবিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
ত্বকের ধরন বুঝে পিম্পল প্যাচ
বাজারে বিভিন্ন সক্রিয় উপাদানযুক্ত (অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস) পিম্পল প্যাচ পাওয়া যায়। তবে নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক উপাদানটি বেছে নেওয়া জরুরি।
তৈলাক্ত ত্বক: যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং ব্রণের প্রবণতা বেশি, তাঁদের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত পিম্পল প্যাচ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোমকূপ পরিষ্কার রাখে।
সংবেদনশীল ও শুষ্ক ত্বক: সংবেদনশীল বা শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রোকলয়েড প্যাচ বেছে নেওয়া উচিত। এটি কোনো রকম জ্বালাপোড়া ছাড়া ক্ষতস্থান আর্দ্র রেখে দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে।
স্বাভাবিক ত্বক: সাধারণ বা স্বাভাবিক ত্বকে হঠাৎ দু-একটি ব্রণের উপদ্রব হলে টি-ট্রি অয়েলযুক্ত প্যাচ ব্যবহার করা যায়। টি-ট্রি অয়েলের প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করতে কার্যকর।
ব্যবহারের নিয়ম ও সময়সীমা
ব্যবহারের সঠিক নিয়মের ওপর পিম্পল প্যাচের কার্যকারিতা নির্ভর করে। ত্বকে কোনো ধরনের তেল, ময়েশ্চারাইজার বা লোশন থাকা অবস্থায় লাগালে প্যাচ ঠিকমতো বসবে না এবং কাজ করবে না। মুখ পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ শুষ্ক করার পরই কেবল নির্দিষ্ট ব্রণের ওপর প্যাচটি বসাতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী মুখের বাকি অংশে নিয়মিত ত্বকচর্চা করা যেতে পারে।
প্যাচ কতক্ষণ ত্বকে রাখা যাবে, তা সাধারণত প্যাকেটের গায়ে লিখে দেওয়া থাকে। ব্র্যান্ডভেদে এটি ৪ ঘণ্টা, ৬ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা বা সারা রাতও রাখা যায়। কাজ শেষে সাবধানে প্যাচের ভেতরে আটকে থাকা তরল প্যাচের সঙ্গে তুলে ফেলতে হবে।
সতর্কতা
অপরিচ্ছন্ন মুখে বা মেকআপের ওপর অনেকে পিম্পল প্যাচ লাগিয়ে নেন। এতে ত্বকের স্বাভাবিক সেরাম নিঃসরণ আটকে গিয়ে ভেতরের সংক্রমণ আরও বেড়ে যায়। মনে রাখতে হবে, পিম্পল প্যাচ কোনো ম্যাজিক নয় যে এটি দিয়ে ব্রণের স্থায়ী নিরাময় সম্ভব।
হঠাৎ কোনো প্রয়োজনে ব্রণের ফোলা ভাব ও সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সংক্রমিত স্থান বারবার ধরার বদভ্যাস এড়াতে পিম্পল প্যাচ হতে পারে আধুনিক ও নিরাপদ সমাধান। তবে স্থায়ীভাবে দাগহীন ও সুস্থ ত্বক পেতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, সঠিক জীবনযাপন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
জীবনযাপন থেকে আরো পড়ুন
Mahfuzur Rahman
Editor & Publisher