বিশ্ব প্রবাস

অনিয়মিত অভিবাসীদের অধিকার আন্দোলনের স্মারক উন্মোচন প্যারিসে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৩:১০ | ৬৬

১৯৯৬ সালের ২৩ আগস্ট প্যারিসের স্যাঁ-বার্নার গির্জায় কাগজপত্রহীন মানুষের ওপর নেমে এসেছিল উচ্ছেদের খড়্গ। সেই ঘটনার তিন দশক পর একই শহরে উন্মোচন করা হলো একটি স্মারক।

কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার ও মর্যাদার জন্য তাদের সেই লড়াই আজও যে মানুষের মনে জায়গা করে আছে এই স্মারক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে সেটিই যেন আবারও সামনে এলো। অনুষ্ঠানে প্যারিসের বিভিন্ন এলাকার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। সলিদারিতে আজি ফ্রান্সের (এসএএফ) সভাপতি নয়ন এনকে এবং সহসভাপতি তাওহিদ আহমেদসহ সংগঠনটির অন্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন প্যারিসের ১৮তম এলাকার মেয়র এরিক ল্যোজাঁদ্র। তিনি কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় অ্যাসোসিয়েশন ৭৫-এর সভাপতি আবুবাকারসহ প্যারিসের ১৮তম এলাকার বিভিন্ন নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন কাগজপত্রহীন মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে তাদের লড়াইকে সমর্থন করার দায়িত্ব সমাজের সবার। এই সংহতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার।
১৯৯৬ সালের আগস্টে প্যারিসের ১৮তম এলাকার স্যাঁ-বার্নার গির্জায় দুই শতাধিক কাগজপত্রহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের অনেকের বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থাও ছিল না। নিজেদের অধিকার এবং বৈধ কাগজপত্রের দাবিতে তারা গির্জায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তৎকালীন গির্জার ফাদার তাদের আশ্রয় দেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও খাবার ও পোশাকসহ বিভিন্নভাবে তাদের পাশে দাঁড়ান।
কিন্তু ২৩ আগস্ট ১৯৯৬ সালে সরকারি নির্দেশে পুলিশ গির্জার দরজা ভেঙে ভেতরে অবস্থানরত মানুষদের জোর করে বের করে দেয়। পরে তাদের অনেকেই দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। ঘটনাটি ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার ও মানবিক মর্যাদার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ প্যারিসের রাস্তায় নেমে আসেন। সেই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সে কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।

স্মারক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এটি শুধু একটি পুরনো ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখার উদ্যোগ নয়। এটি মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোরও একটি বার্তা। তাদের মতে কাগজপত্রহীন মানুষও সমাজের অংশ। তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক সংহতি এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। ১৯৯৬ সালের সেই আন্দোলনের স্মৃতি ধারণ করে উন্মোচন করা স্মারকটি তাই অতীতের একটি ঘটনা স্মরণ করার পাশাপাশি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও মানবিক সংহতির বার্তা দিচ্ছে্।

বিশ্ব প্রবাস থেকে আরো পড়ুন

Mahfuzur Rahman

Editor & Publisher